মিহির দেব ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ বাজারে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা তৃতীয় দিনের মতো উত্তপ্ত রয়েছে পুরো এলাকা। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল থেকে আবারও দুই পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মতে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে টেটা বিধ্য একজনকে জেলাসদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালীকচ্ছ বাজারজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। অনেক দোকানের শাটার খোলা থাকলেও ভেতরে কোনো মালামাল নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীরা শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে শতাধিক পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উপস্থিত রয়েছেন সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল কাদের ভূঁইয়া।
সংঘর্ষের কারণে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে , এসময় হাজারো যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।
এদিকে কালীকচ্ছে অবস্থিত আঞ্চলিক বিজিবি সদর দপ্তর ও সরাইল বিজিবি ব্যাটালিয়নের আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাজারের উত্তরাংশে পরিস্থিতি এতটাই অস্থিতিশীল ছিল যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরাও সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি।
সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। আশা করছি খুব দ্রুত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।”
এর আগে সোমবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত হাদিস মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়। দাফনের পরপরই ধর্মতীর্থ গ্রামের শত শত লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে কালীকচ্ছ বাজারে সূর্যকান্দি গ্রামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও পরে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
উল্লেখ্য: কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ হোসেন (৪৫) ও ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিস মিয়ার মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রোববার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষের একপর্যায়ে বল্লমের আঘাতে ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিস মিয়া (৫৫) নিহত হন। ওই ঘটনার জের ধরেই টানা তিন দিন ধরে এলাকায় সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মিহির কুমার দেব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: নাসিরনগর থানা রোড, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
মোবাইল : ০১৭২৫-১০১১১১ । ওয়েব:nasirnagarerkhobor.com