মিহির দেব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঃব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডাস্থ তিনশত বছরের প্রাচীন শ্রীশ্রী কাল ভৈরব মন্দিরে পাঁচ দিনব্যাপী সপ্তশতী বার্ষিক মহাযজ্ঞ মহোৎসব শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সকালে বৈদিক পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ৬দিন ব্যাপী মহাযজ্ঞ উৎসবের উদ্বোধন করেন, মন্দির কমিটির সভাপতি পলাশ ভট্টাচার্য। এ সময় বাংলাদেশর বিভিন্ন স্থান সহ ভারত থেকে আগত পুরোহিত পন্ডিতগন সহ স্থানীয় ভক্তবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা জানান,আজ দুপুর থেকে জীব জগতের কল্যান কামনায় সপ্তশতী চন্ডী মহাযজ্ঞ শুরুহয়। এতে দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তবৃন্দরা যজ্ঞের আহুতি হিসেবে ফল, ফুল,দূর্বা, বেলপাতা সহ বিভিন্ন পূজার সামগ্রী যজ্ঞ স্থলে প্রদান করেন। এসময় আয়োজক সহ ভক্তরা জীব জগতের কল্যান কামনা করেন।
যজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজক ও কালভৈরব মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি পশাল ভট্টাচার্য জানান, আজ থেকে তিনশো বছর পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা দূর্গাচরন আচার্য্য স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে শহরের মেড্ডা এলাকায় তিতাস নদীর তীরে শ্রীশ্রী কালভৈরব মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে জীব জগতের কল্যান কামনায় প্রতিবছর এই যজ্ঞ অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। পরে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহীনি ডিনামাইটের মাধ্যমে ২৪ফুট উচু কালভৈরব মুর্তির ক্ষতিসাধন করাহয়। এর পর স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েক বছর পূজা-উৎসব বন্ধ থাকে। পরে কুমিল্লার ভক্ত সচিনন্দন সেন, “স্থানীয় ভক্তদের সহযোগীতায় কালভৈরব মন্দিরটির পুণ: প্রতিষ্ঠা করেন। এর পর থেকে গত ৪৮বছর ধরে পুন:প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
যজ্ঞ অনুষ্ঠানে যোগদেয়া পুরোহিত
শ্রী মধুসুধন চক্রবর্তী জানান,”
জীব জগতের কল্যান কামনায় এই চন্ডী যজ্ঞের মাধ্যমে মহাকালকে তুষ্ট করার জন্যেই ধর্মীয় ভাবে এই প্রয়াস গ্রহন করা হয়েছে।
অপর পুরোহিত শ্রী কাবিকারঞ্জন ভট্টাচার্য জানান,এ যজ্ঞ করা হচ্ছে মা চন্দ্রিকা কে তুষ্ট করার জন্য।তিনি তুষ্ট হলেই ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ হবে। মা সবাইকে আশীর্বাদ করবেন। সকলেই যেন ভাল থাকে, এই প্রার্থনা মায়ের কাছে করছি।
এদিকে কালভৈরব মন্দিরে আসা ভক্তদের সার্বিক সহযোগিতা সহ শুভেচ্ছা জানান,জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। তিনি বলেন,”প্রাচীনের মনের উৎসব কে কেন্দ্র করে মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে উৎসব অঙ্গন। তিনি জানান আয়োজক যারা আছে আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করছি। পাশাপাশি যারা দূরদূরান্ত থেকে এসেছেন, “তাদের প্রত্যেককে স্বাগত জানাচ্ছি। উৎসব চলবে আমরা তাদের পাশে সার্বিকভাবে আছি।
এদিকে পাঁচদিনব্যাপী যজ্ঞ উৎসবকে কেন্দ্রকরে কালভৈরব মন্দির আশেপাশে তিতাস নদীর তীরে বসেছে লোকজ মেলা। মেলায় নাগরদোলা খেলনা সামগ্রী সহ মাটির তৈরী হরেক রকমের সামগ্রীর পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান চলবে।